আমলাপাড়ায় বাবু বাহিনীর তান্ডব: সদর থানায় অভিযোগ
সারাদেশ আইন-আদালত

আমলাপাড়ায় বাবু বাহিনীর তান্ডব: সদর থানায় অভিযোগ


অবশেষে ইস্তু ক্যাবল নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বাবু বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নিলেও এখনও পর্যন্ত মামলা হিসেবে তা গ্রহন করেনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদী ১। আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু [৫০] পিতা-মৃত: গোফরান, সাং-পাইকপাড়া, আমিনা মঞ্জিল, ২। শংকর [৫০] পিতা-অজ্ঞাত, তত্ববধায়ক-এস.বি স্যাটেলাইট, সাং-জামতলা, ৩। কোরবান [৩৮] পিতা-মেজবাহ উদ্দিন ওরফে ফকির, ৪। রিফাত [৩৫] পিতা-নবু মিয়া, উভয় সাং-আমলাপাড়া, ৫। হৃদয় [২৫] পিতা-অজ্ঞাত, সাং-আমলাপাড়া মাছুয়াপাড়া, ৬। নিবির [৩০] পিতা-অজ্ঞাত, সাং-মিশনপাড়া, ৭। অনিক [৩২] পিতা-অজ্ঞাত, সাং-জামতলা, সর্ব থানা ও জেলা-নারায়ণঞ্জ গণসহ তাহাদের সহযোগি অজ্ঞাত নামা ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, আমি আমলাপাড়া এলাকাধীন ‘ইস্তু ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক’ নামীয় প্রতিষ্ঠান দিয়া প্রায় ৩১ বৎসর যাবৎ ডিস সংযোগের ব্যবসা করিয়া আসিতেছি।


১নং বিবাদী পাইকপাড়া এলাকায় ‘এস.বি স্যাটেলাইট’ নামীয় প্রতিষ্ঠান দিয়া ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা করে। ১নং বিবাদী আমার ব্যবসা বন্ধ করিয়া জোরপূর্বক আমার এলাকায় সে ব্যবসা করার পায়তাড়া করিয়া আসিতেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং ২১/০৩/২০২২ তারিখ রাত্র অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় ১নং বিবাদীর নির্দেশে অপরাপর বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার আমলাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা সহ আমার মূল স্টেশন হইতে তার কাটিয়া প্রায় ৩০০/৪০০ ডিস গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিয়া অনুমান ২,০০,০০০/- [দুই লক্ষ] টাকার ক্ষতিসাধন করে।


ঐ সময় আমার স্টাফ জহির [৩৪] সহ অন্যান্য স্টাফগণ আসিয়া আমাকে সংবাদ দেয়। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে আমি সহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পাইয়া বিবাদীরা চলিয়া যায়। পরবর্তীতে আমি সহ স্থানীয় লোকজন যাহার যাহার মতো চলিয়া গেলে ইং ২১/০৩/২০২২ তারিখ রাত্র অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় ১নং বিবাদীর নির্দেশে অপরাপর বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া পুনরায় আমার আমলাপাড়াস্থ মসজিদ সংলগ্ন অফিসে আসিয়া আমার স্টাফ উক্ত জহিরকে সহ আরো ৪/৫ জন স্টাফকে এলোপাতাড়ী মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।


২নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া আমার স্টাফ জহিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় পোচ মারিতে গেলে আমার স্টাফ গলা সরাইয়া নিলে উক্ত পোচ ডান কানে লাগিয়া কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অপরাপর বিবাদীগণ আমার আরো ৪/৫ জন স্টাফকে এলোপাতাড়ী মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।


বিবাদীদের আঘাতে আমার স্টাফগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া পড়িলে উল্লেখিত বিবাদীগণ পরস্পর সহায়তায় আমার অফিসে থাকা বিল সংগ্রহের নগদ ৪০,০০০/-[চল্লিশ হাজার] টাকা নিয়া যায়। পরবর্তীতে আমার ম্যানেজার জখমী জহিরকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়া নিয়া চিকিৎসা করায়।


উল্লেখ্য যে, ইহা ছাড়াও উল্লেখিত বিবাদীগণ আমার ছেলের ‘আই কমিনিকেশন’ নামীয় ইন্টারনেট সংযোগের তার কাটিয়া প্রায় ২০০০ [দুই হাজার] গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিয়া অনুমান ৫,০০,০০০/- [পাচ লক্ষ] টাকার ক্ষতিসাধন করে। আমার স্টাফ জহিরকে চিকিৎসা করাইয়া এবং ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানাইয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় অভিযোগ নিয়ে ইস্তু ক্যাবল নেট ওয়ার্কের অংশিদার মোশারফ হোসেন সোহেল অভিযোগ দায়ের করতে থানায় যান। এসময় সদর থানার ওসি শাহ জামান মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি নানা প্রশ্ন করেন সোহেলকে। ডিস ব্যবসার লাইসেন্স আছে কিনা, ডাউনলোড পারমিশন আছে কিনা তা জানতে চান এবং আজ বুধবার সকালে তার কপি নিয়ে থানায় যেতে বলেন।

প্রশ্ন উঠেছে, হামলা, মারধর, ইন্টারনেট ও ডিসের লাইন কেটে পুরো এলাকায় ত্রাসের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতে চাননি কেন? ডিস ব্যবসা দেশে চালু হবার সময় থেকে লাইসেন্স নিয়েই সে ব্যবসা করে আসছে। সেসময়ে পুরাতন গাড়ি ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসা করত ডিস বাবু।

উল্লেখ্য, ঘটনার সময় সদর থানার ওসিকে জানানো হলে তিনি নিজেই বলেছেন, ডিস বাবু তাকে ফোন করে জানিয়েছে আমলাপাড়ায় তার লোকজনকে মারধর করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডিস বাবুর এলাকা ১৭নং ওয়ার্ডে। কিন্তু এত রাতে তার লোকজন ১৩ নং ওয়ার্ডের আমলাপাড়ায় কেন এসেছিল তা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। টেলিফোনে ঘটনার সময় ওসি শাহজামানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কার কোন এলাকা আমরাতো জানিনা। ডিস নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে বিষয়টি বসে সমাধান করে নেয়াই ভাল।  এসময় ওসিকে বলা হয় ঠিকা আছে সামাজিকভাবেই সমাধান হবে। আপাতত কোন বাবুর লোকজনকে লাইন টানা কিংবা কাটা থেকে বিরত রাখুন। অবশ্য সে কথায় কর্নপাত করেননি ওসি শাহজামান। উল্টো পুলিশ প্রহরায় তান্ডব চালানো সুযোগ করে দেন তিনি। মঙ্গলবার দফায় দফায় বাবু বাহিনীর সদস্যরা নতুনভাবে বাবুর লাইন টানার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে সংবাদপত্র কর্মীরা সেখানে গেলে তারা দ্রুত সরে যায়। মঙ্গলবার দিনভর চলেছে এ খেলা। এলাকাবাসী তাদের কাছে জানতে চাইলে সন্ত্রাসীরা জানায় এমপি ও ওসির অনুমতিতে তারা কাজ করছেন। কিন্তু সংবাদপত্র কর্মী দেখলে তারা পালিয়ে যায়।  এ নিয়ে দিনভর এলাকাবাসী ও বাবুর বাহিনীর মধ্যে চলে উত্তেজনা।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, ফের বাবু বাহিনী আসলে তাদের প্রতিহত করা হবে। এলাকা রক্ষা করতে প্রয়োজনে তারা প্রস্তুতি নিয়েই রাস্তায় থাকবেন।