নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে পণ্যবাহী কার্গো চাপায় ডুবে যাওয়া এম এল আফছারউদ্দিন নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২১ মার্চ) ভোর সোয়া ৫টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের সাহায্যে লঞ্চটি পানি থেকে টেনে তীরে আনা হয়। তবে লঞ্চের ভেতর কোন যাত্রীর দেহ পাওয়া যায়নি। লঞ্চ ডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ৬ জনের লাশ রোববার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং ২ জনের লাশ সোমবার সকালে উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনদের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ৮ লাশের পরিচয় হচ্ছে, জয়নাল ভুইয়া (৫০) পিতা মৃত: জুলফিকার আলী, উত্তর ইসলামপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর, আরিফা বেগম (৩৫) স্বামী-দ্বীন ইসলাম, রমজানগো, মুন্সীগঞ্জ, তার শিশু পুত্র সাফায়েত হোসেন (১৫ মাস), স্মৃতি রাণী বর্মণ (১৯), পিতা জয়রাজ বংশী, ইসমাইলের চর, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ, উম্মে খায়রুন ফাতেমা (৪৫), স্বামী আবু তাহের সরকার, দেলরবাগ, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, সালমা (৩৩), পিতা-আজিজ, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী, ফাতেমা (৭), পিতা- ইউনুছ খলিফা, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী এবং অজ্ঞাতনামা একজন।
এরমধ্যে নিহত উম্মে খায়রুন ফাতেমা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যরবাজার হারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভেতরে কোনও লাশ পাওয়া যায়নি। তবে ভাসমান অবস্থায় দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট লাশের সংখ্যা ৮জন। তিনি আরও জানান, উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল ও কোস্ট গার্ডসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত: নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মুন্সগীঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমএল আফসার উদ্দিন নামে একটি লঞ্চকে নারায়ণগঞ্জে চর সৈয়দপুর আলামিন নগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে রোববার (২০ মার্চ) বেলা ২টা ২০ মিনিটে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন এমভি রূপসী-৯ কার্গো জাহাজ ঠেলে প্রায় ২০০ ফুট দুরে নিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ঘাতক লঞ্চটি আটক করেছে নৌ-পুলিশ। ঘটনা তদন্তের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।







