পশ্চিম দেওভোগে মাদক ব্যবসায়ী মিশুর উৎপাত
আইন-আদালত

পশ্চিম দেওভোগে মাদক ব্যবসায়ী মিশুর উৎপাত


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মিশুর উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাবাসী। এলাকাবাসী, পঞ্চায়েত কমিটি, ওয়ার্ড মেম্বার, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও চেয়ারম্যান সবাই জানে, পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসা গাঙ্গুলি বাড়ি এলাকায় মাদকের মূল ব্যবসায়ী মিশু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বেশ কয়েকবার মাদকসহ গ্রেফতারও হয়েছে এই ছিচকে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু জেল থেকে বের হয়েই পুনরায় এলাকায় সৃষ্টি করছে ত্রাসের রাজত্ব।



স্থানীয়রা জানায়, নিজে নিজেই মোড়ল খ্যাত বিএনপি নেতা হেদায়েতুল্লাহ খোকনের ভাতিজা এই মিশু। চাচার শেল্টারেই প্রকাশ্যে দিনের পর দিন মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মানুষকে মারধর সহ নানা জুলুম অত্যাচার করছে স্থানীয়দের উপর। মাদকের ডিলার এই মিশুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ইতিমধ্যেই অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।


আরও পড়ুন: না:গঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হলেন শামীম ওসমান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, গাঙ্গুলি বাড়ি এলাকায় গড়ে উঠা কিছু হোসিয়ারী থেকে দীর্ঘ কয়েকবছর যাবৎ আমি ঝুট ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপি নেতা হেদায়েতুল্লাহ খোকনের ভাতিজা ছিচকে সন্ত্রাসী মিশু আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি নিরীহ মানুষ। সপ্তাহে যে ৪/৫ হাজার টাকার ঝুট পাই তা বিক্রি করেই সংসার চলে আমার। আমি কোনো টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমাকে জানে মেরে ফেলাসহ আমাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় মিশু। তার হুমকির কারণে আমি থানায় গিয়ে মামলা করতেও ভয় পাচ্ছি। মিশুর সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে এখন আমার ব্যবসা বন্ধ।



আরও জানা যায়, কাশিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দেওভোগ মাদ্রাসা গাঙ্গুলি বাড়ি এলাকাটিতে অস্থানীয় লোকদের বসবাস বেশী। সামনে ফারিয়া গার্মেন্টস সহ বিসিক পল্লী থাকায় বাহিরের জেলার মানুষদের বসবাস এখানে বেশী। বাহিরের জেলার লোক হওয়ায় তাদের উপর নানা জুলুম অত্যাচার করে মিশু বাহিনী।



ঐ এলাকায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে মাসে মাসে চাঁদা দিতে হয় মিশুকে। চাঁদা না দিলেই তার উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এর আগেও বহু মানুষকে চাঁদা না দেয়ার কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে মিশু। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেকেইে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে গাঙ্গুলি বাড়ি এলাকা ছাড়ে।

আরও পড়ুন: ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন


স্থানীয়রা বলছে, এই এলাকায় মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন হেদায়েতুল্লাহ খোকনের ভাতিজা মিশু ও তার বাহিনী। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল এলাকায় আনেন। বিক্রি করেন তাঁদের সহায়তাকারীরা। এর মধ্যে সে ও তার সহযোগীরা এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। গাঁজা ও ফেন্সিডিলের ব্যবসাও তাঁর হাতে।



নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাঙ্গুলি বাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বললেন, ‘মাদকের বিস্তারের কারণে উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়ে বেশি চিন্তায় থাকতে হয়। ব্যবসায়ীদের টার্গেট তো তরুণরাই।’



আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘কারা ব্যবসা করে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কিছু কওনের নাই। কইলেই আমরা তাঁদের টার্গেট হয়া যামু। তখন দেখা যাবে, আমাদের উপর উৎপাত শুরু হয়া যাবে।’ তিনি আরও বলেন, মাদকসেবীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।